চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা এখন ইয়াবার প্রবেশের নতুন হটস্পট হিসেবে পরিচিত হয়েছে। মিয়ানমারের সান স্টেট থেকে ইয়াবার চালান বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আসছে। চট্টগ্রাম পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আনোয়ারা উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং শিগগিরই মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আনোয়ারাকে গত কয়েক বছর ধরে 'রেড জোন' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, কিন্তু রাজনৈতিক বাধার কারণে মাদক প্রবাহ ঠেকানো সম্ভব হয়নি। এখানে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের হুমকির কারণে মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধ ছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিয়ানমারের সান স্টেট থেকে ইয়াবা মাফিয়ারা মিয়ানমারের তুয়াঙ্গী ও ইয়াঙ্গুন নদী ব্যবহার করে ইয়াবার চালান পাচার করছে। প্যাথেইন নদী হয়ে এসব চালান বঙ্গোপসাগরের সেন্টমার্টিনের আশপাশে পৌঁছাচ্ছে। সেখানে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের মাধ্যমে ইয়াবা চালান আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় এলাকাগুলোতে পৌঁছানো হচ্ছে।
এছাড়া, অভিযোগ রয়েছে যে, আনোয়ারা উপজেলার কিছু জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা মাদক ব্যবসায়ীদের সহায়তা করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা, ইউপি চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী রয়েছেন। এসব নেতা ও ব্যবসায়ীরা ইয়াবা চালান দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এভাবে আনোয়ারা উপজেলাকে ইয়াবার ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম পুলিশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে।
0 মন্তব্যসমূহ